নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ এপ্রিল সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ধারাবাহিক অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা এ কর্মসূচির কথা জানান।
প্রার্থীদের ভাষ্য, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলেও ফল প্রকাশের পর অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো নিয়োগ বা পদায়ন নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। বরং সংশ্লিষ্টদের ‘প্রহসনমূলক’ আচরণে তারা মানসিকভাবে চরম উদ্বেগে রয়েছেন।
তাদের দাবি, গত ৮ ফেব্রুয়ারি গোয়েন্দা সংস্থা ও অধিদপ্তরের পুনঃতদন্ত শেষে তাদের চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এমনকি যোগদানের আশায় অনেকে পূর্বের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, ফলে বর্তমানে তারা অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ সারাদেশের সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পূর্ববর্তী সরকার এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গেছে।
বিবৃতিতে প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, গত ২২ এপ্রিল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে নিয়োগ বিষয়ে এক ধরনের দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থা দেখা গেছে। এর প্রতিবাদে তারা পূর্বঘোষিত ১০ দিনের আল্টিমেটাম বাতিল করে সরাসরি আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৬ এপ্রিল রবিবার সকাল ১১টা থেকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণ ধারাবাহিক অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবেন তারা।
পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় গত ৯ জানুয়ারি একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
পরবর্তীতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয় এবং জেলাভিত্তিক তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নির্বাচিত প্রার্থীদের ২২ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ ও ডোপ টেস্ট রিপোর্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে বলা হয়।
এছাড়া ১ মার্চের মধ্যে পরিচয় যাচাই ও অন্যান্য কাগজপত্র পরীক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সব মূল সনদপত্রসহ (শিক্ষাগত সনদের মূল কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, যথাযথভাবে পূরণকৃত তিন কপি পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম, স্বাস্থ্য সনদ, ডোপ টেস্ট রিপোর্ট এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা সংক্রান্ত সনদ) সরাসরি উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত নিয়োগপত্র না পাওয়ায় নির্বাচিত প্রার্থীরা যোগদান করতে পারছেন না।