ভূত প্রেত্নির গল্প কম বেশি সবার কাছে প্রিয়। ছোটোবেলায় নানা-নানী, দাদা-দাদীর কাছে ভূতের গল্প শুনতে সবাই ভালোবাসে রীতিমতো ভয়ও পায়। ভয়ের মধ্যেও যেন এক ধরনের মজা আছে। ভূত দেখেছেন এমন লোকের সংখ্যাও নেহাত কম নয়! সব মানুষই কম বেশি ভূত পেত্নী আছে বলে বিশ্বাস করে। ইচ্ছেমতো ভূত পেত্নি দেখা না গেলেও কিছু কিছু জায়গায় গেলে ভূত পেত্নি দেখা যায় বলে বিশ্বাস আছে। মানুষ ধারণা করে ভূতেরা সাধারণত ভাঙা পুরানো বাড়ি, গোরস্থান, শ্মশান, বট গাছ, গাব গাছ, শেওড়া গাছ, তাল গাছ, বাঁশ বাগান, বনের পুকুর পাড়ে প্রভৃতি জায়গায় বসবাস করে। কারণ এই জায়গাগুলোতে মানুষ কম যায়।
পেত্নী কিন্তু দেখতে চাইলেই দেখা যায় না। পেত্নী কি আসলেই আছে? যদি থাকে, তাহলে তারা কোথায় থাকে? তাদের দেখতে কেমন? তাদেরকে কি ধরা যায়? বাড়িতে আনা যায়? কখন তাদের দেখতে পাওয়া যায়?আবার অনেকেই বলে থাকেন পেত্নি গাছের ডালে দুই পা ফাক করে দাঁড়িয়ে থাকে। কেউ কেউ বলে পেত্নির চুল গাছ থেকে মাটিতে ঝুলে থাকে। রাতের বেলায় যদি কেউ ঐ গাছের তলা দিয়ে যায় তখন শয়তান পেত্নি চড়চড় করে তার মাথার উপর প্রসাব করে দেয়। কেউ কেউ বলে পেত্নির প্রসাব অত্যান্ত গন্ধ। আপনার কি কখনও এরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে অথবা আপনি কি পেত্নি দেখেছেন। যদি দেখে থাকেন তাহলে এখনই কমেন্টের মাধ্যমে জানান। এখন আমরা ভূত পেত্নি সম্পর্কে আরও মজার মজার তথ্য জানবো তাই মনোযোগ দিয়ে ভিডিও টি দেখবেন। মোটেই স্কিপ করবেন।
বাংলা সংস্কৃতিতে ভূত পেত্নি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুরাতন এবং নতুন উভয় বাংলা রূপকথায় প্রায়ই ভূত পেত্নির ধারণা ব্যবহার করা হয়। আধুনিক বাংলা সাহিত্যেও প্রায়ই ভূতের উদাহরণ পাওয়া যায়। বিশ্বাস করা হয়, ভূত হল সেই সব অশরীরি আত্মা যারা মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে শান্তি খুঁজে পায়নি (যাদের অতৃপ্ত আত্মাও বলা হয়ে থাকে) বা পৃথিবীতে অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছে (যেমন খুন, আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা)। এছাড়াও বিশ্বাস করা হয়, অন্যান্য জীবজন্তু বা প্রাণীও তাদের মৃত্যুর পরে ভূতে পরিণত হতে পারে। বাংলায় ভূতকে মাঝে মাঝে প্রেতাত্মা (সংস্কৃত) হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। প্রেতাত্মার নারীবাচক শব্দকে পেত্নী হিসেবে এবং পুরুষবাচক শব্দকে প্রেত বলা হয়ে থাকে।
পেত্নী হলো নারী ভূত যারা বেঁচে থাকতে কিছু অতৃপ্ত আশা ছিল এবং অবিবাহিতভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। পেত্নী শব্দটি সংস্কৃত প্রেত্নী শব্দ থেকে এসেছে (পুরুষবাচক শব্দ প্রেত)। এসব ভূত সাধারনত যে কোন আকৃতি ধারন করতে পারে, এমনকি পুরুষের আকারও ধারণ করতে পারে। এসব ভূত সাধারনত বেঁচে থাকতে কোন অপরাধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে এবং মৃত্যুর পর অভিশিপ্ত হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করে। পেত্নীরা সাধারনত ভীষণ বদমেজাজী হয়ে থাকে এবং কাউকে আক্রোমনের পূর্ব পর্যন্ত স্পষ্টতই মানুষের আকৃতিতে থাকে। পেত্নীদের আকৃতিতে একটিই সমস্যা রয়েছে, তা হলো তাদের পাগুলো পিছনের দিকে ঘোরানো।
আপনি কি জানেন পেত্নি কত প্রকার ও কি কি। এখন জানবো বিভিন্ন প্রকার পেত্নির সম্পর্কে।
শাকচুন্নি: শাকচুন্নি শব্দটি সংস্কৃত শব্দ শঙ্খচূর্ণী থেকে এসেছে। এটা হলো বিবাহিত মহিলাদের ভূত যারা বিশেষভাবে তৈরি বাঙ্গালি শুভ্র পোশাক পরিধান করে এবং হাতে শঙ্খ বা শাঁখা পরিধান করে। শাঁখা হলো বাঙ্গালি বিবাহিত হিন্দু মহিলাদের প্রতীক। শাকচুন্নিরা সাধারনত ধনী বিবাহিত মহিলাদের ভেতর ভর করে বা আক্রমণ করে যাতে করে তারা নিজেরা সেই মহিলার মত জীবন যাপন করতে পারে ও বিবাহিত জীবন উপভোগ করতে পারে। লোকগাঁথা অনুসারে তার আম গাছে বসবাস করে।
চোরাচুন্নিঃ চোরাচুন্নি অত্যন্ত দুষ্ট ভূত। এরা মানুষের অনিষ্ট করে থাকে। সাধারনত কোন চোর মৃত্যুবরণ করলে চোরাচুন্নিতে পরিনত হয়। পূর্ণিমা রাতে এরা বের হয় এবং মানুষের বাড়িতে ঢুকে পড়ে অনিষ্ট সাধন করে। এদের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাড়িতে গঙ্গাজলের (হিন্দু সংস্কৃতিতে গঙ্গা জলকে পবিত্র জল হিসেবে বিবেচনা করা হয়) ব্যবস্থা করা হয়।।
মেছোভূতঃ এ ধরনের ভূতেরা মাছ খেতে পছন্দ করে। মেছো শব্দটি বাংলা মাছ থেকে এসেছে। মেছো ভূত সাধারনত গ্রামের কোন পুকুর পাড়ে বা লেকের ধারে যেখানে বেশি মাছ পাওয়া যায় সেখানে বসবাস করে। মাঝে মাঝে তারা রান্নাঘর বা জেলেদের নৌকা থেকেও মাছ চুরি করে খায়। বাজার থেকে কেউ মাছ কিনে গাঁয়ের রাস্তা দিয়ে ফিরলে এটি তার পিছু নেয় এবং নির্জন বাঁশঝাঁড়ে বা বিলের ধারে ভয় দেখিয়ে আক্রমণ করে মাছ ছিনিয়ে নেয়।
নিশিঃ ভূতদের মধ্যে অন্যতম ভয়ংকর হলো নিশি। অন্যান্য ভূত সাধারণত নির্জন এলাকায় মানুষকে আক্রমণ করে।